বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও কিছু গুরত্বপুরন তথ্য



আমাদের আশে পাশের দেশ মানে ,
            ভারত  যদি আমাদের আক্রমণ করে

তাহলে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা কি রকম আমরা কি আসলেই কোন প্রতিরোধ করতে পারব ?

এই ব্যাপারটি একটি খুব কমন আলোচনার বিষয়। কোন দেশের প্রকৃত সামরিক শক্তি কখনই সেই দেশ প্রকাশ করে না। এটি টপ সিক্রেট বিষয়। আর যুদ্ধে জিততে কিন্তু শুধু সামরিক শক্তিই একমাত্র নিয়ামক নয়। এর সাথে আরও অনেক বিষয় জড়িত। একজন মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারের সাথে এই নিয়ে একদিন কথা হয়েছিল। ওনার বক্তব্য খুব ভাল লেগেছিল। সেটাই এখানে তুলে দিলাম

“প্রথমত বাংলাদেশের ভুমি প্রকৃতি এমন যে এখানে যারা আক্রমণ করতে আসবে তারা চলাচল ও জায়গা দখলের ক্ষেত্রে মারাত্নক সমস্যায় পড়বে। এজন্য বাংলাদেশকে বলা হয় DEFENDERS PARADISE ”. আমদের দেশে আর্মির সাতটি ডিভিশন আছে। সামরিক সুত্র অনু্যায়ী কমপক্ষে একুশটি ডিভিশন নিয়ে এখানে আক্রমণ করতে হবে। যা করতে গেলে এমনকি ভারতেরও পাকিস্তান এবং চীনের বর্ডার সংলগ্ন সেনানিবাস থেকে সৈন্য আনতে হবে, সীমান্ত প্রায় অরক্ষিত রেখে। যা তারা কখনই করতে চাইবে না।




এরপর যদি প্রচলিত যুদ্ধ ব্যাবস্থায় আমরা না পারি, তখন আমরা গেরিলা যুদ্ধ শুরু করব। যেমনটি আমরা করেছিলাম ১৯৭১ সালে। তখন আমাদের রেগুলার আর্মি ছিল না। শুধু আমরা কয়েকজন অফিসার আর বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আর্টিলারি রেজিমেন্টের সৈনিকেরা দেশের মানুষের সাথে মিলে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলাম এবং পাকিস্তানীদের পরাস্ত করেছিলাম। এরপরও না পারলে হবে টোটাল পিপলস ওয়ার, যেটির মাধ্যমে ভিয়েতনাম ইউ এস এর মত পরাশক্তিকে পরাজিত করেছিল।’’

বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সারাদেশে ছড়ানো ২৩টি ব্রিগেডসহ ৭টি পদাতিক ডিভিশনে বিভক্ত। এতে একটি আরমার্ড (সাঁজোয়া) ব্রিগেড (২টি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট), সাতটি গোলন্দাজ ব্রিগেড, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এয়ার-ডিফেন্স গোলন্দাজ ব্রিগেড, একটি ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেড, একটি কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন এবং দু’টি এভিয়েশন স্কোয়াড্রন আছে। এই বাহিনী নিম্নোক্ত আর্মস ও সার্ভিস কোরসমূহে বিভক্ত






কমব্যাট সাপোর্ট
  • আর্মি এভিয়েশন রেজিমেন্ট 
  • আর্টিলারি রেজিমেন্ট 
  • এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি 
  • ইঞ্জিনিয়ারিং কোর 
  • মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স 
  • সিগনাল কোর 
  • মিলিটারি পুলিশ কোর

সেনাবাহিনীর বিভাগ বা কোর গুলোর নাম খুব সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্য করে নিচে দেয়া হল

ক। আর্মার্ড – ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া বাহিনী

খ। আর্টিলারি – কামান বা গোলন্দাজ বাহিনী

গ। সিগন্যালস – এরা ওয়্যারলেস, টেলিফোন, রাডার ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন ও রক্ষা করে

ঘ। ইঞ্জিনিয়ার্স – এরা যাবতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ ছাড়াও পদাতিক বাহিনীর কাজও করতে সক্ষম

ঙ। ইনফ্যান্ট্রি – পদাতিক বাহিনী

চ। আর্মি সার্ভিস কোর – এরা সেনাবাহিনীর ফ্রেশ এবং ড্রাই রেশন, গাড়ি, চলাচলের তেল ইত্যাদি সরবরাহ করে

ছ। এএমসি (আর্মি মেডিক্যাল কোর) – সেনাসদস্য ও তার পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে
জ। অর্ডন্যান্স – যুদ্ধ ও শান্তিকালীন সময়ে ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন সাজ সরঞ্জাম,পোষাক,নিত্য ব্যাবহারের দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ করে
ঝ। ইএমই (ইলেক্ট্রিক্যাল এ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর) – বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র তৈরি ও গাড়িসহ অন্যান্য বিভিন্ন যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের মেইন্ট্যানেন্সের কাজ করে
ঞ। মিলিটারি পুলিশ – এরা সেনানিবাসের ভেতর পুলিশিং, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকে
ট। এইসি (আর্মি এডুকেশন কোর) – সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে
এছাড়াও আর্মি ডেন্টাল কোর, রিমাউন্ড ভেটেরেনারী এ্যান্ড ফার্ম কোর , ক্লারিক্যাল কোর ইত্যাদি আরও কিছু ছোটখাট কোর বা বিভাগ রয়েছে ।


পার্বত্য চট্টগ্রাম

১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সারজেন্সি অভিযানে চালিয়ে যাচ্ছে শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে, যারা উপজাতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্য লড়ছে। ভারতের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা র তাদের অস্ত্র এবং গোলাবারুদ দিয়ে সংগঠিত করেছে ।  ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে সরকার ও শান্তিবাহিনীর সঙ্গে ত থাকথিত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অপেক্ষাকৃত শান্ত। যদিও এখনো সেখানে প্রচুর সেনা মোতায়েন রয়েছে শান্তি প্রতিষ্ঠা, শান্ত-করণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন অব্যাহত রাখতে সেনাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনে বিজিবি (সাবেক বিডিআর) সহযোগিতা করে থাকে। প্রধানত শীতকালে সেনারা স্থানীয় মানুষকে খাদ্য, কাপড় ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। তারা বন্যা এবং পাহাড় ধসের সময়ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে। সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, সংহতি, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রধান কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা (ইউএনপিএসও)-এর সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের ১ম উপসাগরীয় যুদ্ধ চলাকালে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২,১৯৩ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি দলসৌদি আরব এবং কুয়েতের শান্তি রক্ষা কাজের পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নামিবিয়াকম্বোডিয়াসোমালিয়াউগান্ডা/রুয়ান্ডামোজাম্বিক, প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ালাইবেরিয়াহাইতি,তাজিকিস্তানপশ্চিম সাহারাসিয়েরা লিওনকসোভোজর্জিয়াপূর্ব তিমুরকঙ্গোআইভরি কোস্ট ও ইথিওপিয়ায় শান্তি রক্ষা কাজে অংশগ্রহণ করে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রায় ১০,৮৫৫ সৈন্য সারা বিশ্বে জাতিসংঘ শান্তি-রক্ষী বাহিনীতে কর্মরত আছে, যা পৃথিবীর অন্য যে-কোন দেশ হতে বেশি।
A beautiful Video To watch 


ইউএন এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এত চাহিদার কারণের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু বিষয়। অনেকেরই একটা ধারণা আছে যে, আমাদের সেনাবাহিনী এমন কি হয়ে গেল যে সারা দুনিয়ায় এত চাহিদা। এই গরীব দেশের আর্মির অস্ত্র সাজসরঞ্জাম কিই বা আছে। দুনিয়ায় এত উন্নত দেশের আর্মি আর সাজ সরঞ্জাম থাকতে কেন বাংলাদেশ ইউএন এ সবোচ্চ সংখ্যক সেনা পাঠাচ্ছে।
আসলে বাংলাদেশ আর্মির মত এত সস্তায় এত ভাল পারফরম্যান্স অন্য কোন আর্মির কাছে ইউএন পায় না বলেই এদের এত চাহিদা। ন্যাটো সহ অন্যান্য ফোর্স চৌকস হলেও ভীষণ ব্যয়বহুল। একই সাথে আছে ডিসিপ্লিনের ব্যাপার, বিশেষত আফ্রিকার দেশগুলোতে অবাধ যৌনাচারে অভ্যস্ত সেনা সদস্যদের এইডস আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা। সেদিক থেকে আমাদের দেশের সেনারা অনেক নিরাপদ।
এখন আসি মিশন এলাকায় আমাদের সেনাদের কাজ প্রসঙ্গে। মিশন চলে যুদ্ধরত বা যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশ গুলোতে। এসকল বেশির ভাগ দেশেই সরকারের বিরোধী বিদ্রোহী গ্রুপ থাকে যারা সুযোগ পেলে ইউএন ট্রুপসের ওপরও হামলা চালায়। তাদের নিবৃত্ত করে যুদ্ধরত বা যুদ্ধবিদ্ধস্থ একটা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিন্তু খুব সহজ কাজ নয়। বিশেষত সেই দেশগুলো যখন আফ্রিকার (কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধরত, কিছু ক্ষেত্রে আধা সভ্য বা বর্বর) মানুষে পরিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের সেনারা এই দুরহ কাজটি অত্যন্ত সফলভাবে করে যাচ্ছে এবং সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি দেশকে প্রচুর রেমিট্যান্স দিচ্ছে বহিঃবিশ্বের মানুষ যে কয়টি কারণে বাংলাদেশের নাম জানে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউএন মিশনে সর্বোচ্চ শান্তি রক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে।
প্রায়ই একটা কথা শোনা যায় যে আমাদের সেনা বাহিনী যুদ্ধ করারা উপযোগী কি না। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কিন্তু আমাদের কিন্তু সেনাদের প্রায়ই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে কাজ করতে হয়। গত বছর আইভরি কোস্টে যখন যুদ্ধ দানা বেঁধেছিল তখন কিন্তু আমাদের দেশের সেনারাই শান্তি রক্ষায় বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এর আগে কঙ্গোতে শান্তিরক্ষা করতে গিয়ে বিপ্লবীদের সাথে যুদ্ধে বেশ কয়েকবার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।



মিশনে যুদ্ধ করতে যে সরঞ্জামাদি লাগে, সেগুলো জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী না হলে তার ভাড়া পাওয়া যায়না। জাতিসংঘ কতৃক এই নিয়ম করা হয়েছে যাতে করে ভালো সরঞ্জামাদির মাধ্যমে শান্তি রক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। অথচ আমাদের সেনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরনো এবং ঝুঁকি-পূর্ণ সরঞ্জামাদি দিয়ে মিশন করে আসে। নইলে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা লাগতো এ সব সরঞ্জাম কিনতে। তারা পুরনো সরঞ্জাম নিয়ে যায় এই মোটিভেশনে যে, আমাদের দেশ গরীব, নতুন সরঞ্জাম কেনার পয়সা নেই। কষ্টটা না হয় আমরাই করি।
যখন জাতিসংঘ থেকে যখন ইন্সপেকশনে আসে, তখন, সাধ্যের সব কিছু দিয়ে সেই পুরোনো জিনিষ গুলোকে “যুদ্ধোপযুক্ত” হিসেবে সার্টিফাই করায় তারা। কারণ, যুদ্ধোপযুক্ত না হলে রিম্বার্সমেন্টের টাকা পাওয়া যাবেনা। রিম্বার্সমেন্টের এই টাকা কিন্তু সেনারা নিজেরা পায়না। পায় সরকার। মিশনে সেনাদের থাকার জন্য পাকা ঘর পাওয়ার কথা। জাতিসংঘ সেই ঘর না দিতে পারলে বিনিময়ে টাকা দেয়। আমাদের সেনারা বেশির ভাগ সময়েই তাবুতে থাকে। তাবুতে থাকার কারণে প্রাপ্ত মোটা অংকের পুরো টাকাটাই কিন্তু সরকারী কোষাগারে জমা হয়।
আমরা গার্মেন্টস সহ অন্যান্য অনেক শিল্পের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের ব্যাপারে অবগত আছি। একই সাথে এটাও সত্য যে এদেশেই শ্রমিকদের প্রাপ্য সামান্য বেতনের জন্য রাজপথে নামতে হয়। তেমনি বিপুল পরিমান রাজস্ব প্রদানকারী সেনাবাহিনীর এই রূপটি কিন্তু আমাদের অগোচরেই থাকে। চোখের সামনে আমাদের শুধু ভাসে জলপাই রঙের নির্মমতা। দুর্ভাগা আমরা, কত ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করলে আফ্রিকার একটা দেশের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলাকে অধিষ্ঠিত করে দেশকে এমন বিরল সম্মান এনে দেয়া যায় কখনো ভেবেছেন কি?

Commando Training Video -Bangladesh Army 




সেনাবাহিনীর অফিসারদের যে সকল শিক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ঃ
ক। বেসিক কোর্স – কোর ভেদে সাধারনত ৪ মাস হতে ১০ মাস সময়সীমার হয়, সাধারণত সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট/ লেফটেন্যান্ট অবস্থায় এই কোর্স করানো হয়। প্রতিটি অফিসারকেই নিজ নিজ প্রফেশনাল জ্ঞান প্রদান করাই এই কোর্সের উদ্দেশ্য।
খ। অস্ত্রের উপর কোর্স – সব অফিসারকেই অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ শার্প শুটার করে তোলার জন্য বি এম এ তে দুই বছর প্রচুর অনুশীলন ও এই বিষয়ে পড়াশোনা করতে হয়। অফিসার হবার পর পুনরায় লেফটেন্যান্ট অবস্থায় তিন মাস ব্যাপী একটি কোর্স করানো হয় যাতে আগের শেখা বিষয়গুলো তারা ঝালিয়ে নিতে পারে। সাধারণভাবে বলা যায় যে এই প্রশিক্ষণ গ্রহনের ফলে প্রতিটি অফিসারই সব ধরণের অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করে, এক একজন দক্ষ মার্কস ম্যান হয়ে ওঠে এবং সব ধরণের অস্ত্র চালনায় প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী হয়। সেনা অফিসারদের মধ্যে অনেক স্নাইপার ও রয়েছেন।
গ। কমান্ডো কোর্স – প্রায় তিন মাস সময়সীমার এই কোর্সটি প্রচন্ড কষ্টসাধ্য একটি কোর্স যা প্রত্যেক সেনা অফিসারকে বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হয়। এই কোর্সে প্রতিটি অফিসারকে আমানুষিক কষ্টের মধ্যে রাখা হয়। এমনিতেই বি এম এর প্রশিক্ষণ প্রচন্ড কষ্টসাধ্য। অফিসার হবার এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই কমান্ডো কোর্স করতে হয়। এই তিন মাসের কষ্ট এমনকি বিএমএ জীবনের দুই বছরের অমানুষিক কষ্ট কেও হার মানায়।
প্রায় প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬ কিমি থেকে ৪০ কিমি পর্যন্ত দৌড়, অ্যাসল্ট কোর্স(বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম),টানা দৌড়ে উঁচু উঁচু ৭ টি পাহাড় অতিক্রম, আনআর্মড কম্ব্যাট ট্রেনিং (মার্শাল আর্টের সামরিক সংস্করন), ট্র্যাকিং, ম্যাপ অনুসরণ করে দুর্গম এলাকায় ডে মার্চ বা নাইট মার্চ,কমান্ডো কৌশল অনুসরন করে শত্রু এলাকার ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার অনুশীলন,খাবার ছাড়া দুর্গম এলাকায় বেঁচে থাকার সারভাইভাল ট্রেনিং, উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে র‍্যাপেলিং সহ অনেক দুঃসাহসিক প্রশিক্ষণ নেয়ার পাশাপাশি রণকৌশলের ওপর পড়াশোনা করতে হয় এ সময়।
এছাড়া নির্বাচিত অফিসাররা আরও ৬ মাস ব্যাপী কমান্ডো প্রশিক্ষণ নেয় যেখানে উপরে উল্লেখিত প্রশিক্ষণ ছাড়াও আরও অনেক দুঃসাহসিক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। প্যারাশুট নিয়ে ফ্রী ফল, জাম্প মাস্টার, রিগ্যার ইত্যাদি কমান্ডো অনুশীলনের অন্তর্গত। এ ধরণের প্রশিক্ষনে প্রশিক্ষিত দের জাতিসংঘে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কমান্ডোদের মটো হচ্ছে do or die . এই প্রশিক্ষণ চলাকালে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ক্যাজুয়াল্টি তো অহরহ ঘটে। প্রতিটি সেনা অফিসারই এক একজন বেসিক কমান্ডো।
ঘ। জুনিয়র স্টাফ কোর্স – এ কোর্স টিও বাধ্যতামূলক ভাবে সকল ক্যাপ্টেন র‍্যাঙ্কের অফিসারদের করতে হয়। এটি চার মাস ব্যাপী এবং সম্পূর্ণ পড়ালেখার একটি কোর্স। এখানে রণকৌশল বা ট্যাকটিকস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়।
উপরের সবগুলো কোর্সই মানের দিক থেকে বিশ্ব মানের এবং প্রতিটি কোর্সেই উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক বিদেশী অফিসার যোগদান করে। শুধু উপমহাদেশের অফিসাররা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের, আফ্রিকা, ইউরোপ মহাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ক্যাপ্টেন এবং মেজর র‍্যাঙ্কের অফিসাররা এইসব সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে বাংলাদেশে আসে এবং আমাদের প্রশক্ষনের মানের ভুয়সী প্রশংসা করে থাকেন। এমনকি আধুনিক বিশ্বে পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত ইউ এস আর্মি এবং মেরিন অফিসার এবং সেনারা এই ধরণের প্রশিক্ষনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সাথে প্রতি বছরই যৌথ সামরিক অভিযান চালায় যা ‘ব্যালান্স বাফেলো’ এক্সারসাইজ নামে পরিচিত।
যারা বাংলাদেশ আর্মির অফিসারদের প্রশিক্ষণের স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কে সন্দিহান,তাদের জন্য আশা করি উপরের তথ্যগুলো সহায়ক হবে।

আর এখন ...।

ভারতীয় আর্মির সাথে বাংলাদেশে আর্মির ড্রেস একই রকম করে ফেলা হয়েছে
পাশাপাশি ২ দেশের জেনারেলরা উর্দি পড়ে দাড়াইলে বুঝাও যাবেনা কে কোন দেশের।
আর বিজিবি তো পুড়ো বি এস এফ এর মত করা হয়েছে ।
একটা একটা করে এভাবে বাংলাদেশ নামের আলাদা দেশটাকে আর আলাদা রাখবে না, ভারতে মিশায়া ফেলবে এই রাজাকারগুলা। যেন ভারত আর বংলাদেশ আসলে একটাই দেশ , আলাদা কোন দেশ না।
সেদিনের অপেক্ষায় থাকতে হবেনা।
কিন্তু খোদার কসম , পারবি নারে , পারবি না।
 সেনাবাহিনীর সেটা হতে দিবেনা।
ওরা মুখ বুজে সব দেখতেসে।
সময়ের প্রয়োজনে আমাদের  ছেলেরাও আবার অস্ত্র হাতে নিবে তোদের মেরে শেষ করার জন্য।
বাংলাদেশ স্বাধীন আছে , বাংলাদেশ স্বাধীন থাকবে - খোদার কসম



1 টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

We want to reach to what all Bangladeshi intellectuals and all national political forces agreed upon from the necessity of Bangladesh passing by a period of transition and to be ruled by a public character which has been agreed upon for the sake of the nation, its dignity and establish the principles of democratic governance
And one of the most important features of that period is the release of public freedom and the rules of democratic political practice and the forming of political, social entities and others as soon as being notified
পোস্ট নিয়ে আপনার যে কোন মন্তব্য দিতে পাড়েন ও তথ্যসুত্র আমাদের কাছে জানতে চাইতে পাড়েন । ১৯৭১ ইউথ কমান্ড একটি সোশ্যাল অয়াচডগ।কোন প্রোপ্যাগান্ডা তৈরি করা নয় সত্যকে সঠিক রূপে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য । বাংলাদেশের স্বাধিনতার বিপরীতের যে কোন কিছুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল ১৯৭১ নেটওয়ার্ক ,মানে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সচেতন ব্যাক্তি। আমাদের কমান্ড কাউন্সিলে যোগ দিতে চাইলে কিংবা আপনার কাছে যদি কোন কনফেডিন্সিয়াল তথ্য থাকে তা আমাদের ্মেইল করতে পাড়েন 1971.network@gmail.com মেইল এড্রেস এ । যদি পড়ে ভাল লাগে , তাহলে আরেক বাংলাদেশীদের সাথে শেয়ার করুন, যা আপনার দায়িত্ব ।